শনিবার, ২৫ Jul ২০২৬, ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন
একটি সংবাদপত্রের প্রকৃত পরিচয় তার বয়সে নয়, তার বিশ্বাসযোগ্যতায়। কত বছর প্রকাশিত হয়েছে, কত কপি ছাপা হয়েছে কিংবা কত মানুষের হাতে পৌঁছেছে এসবের চেয়েও বড় প্রশ্ন হলো, মানুষের সংকটের সময়ে সে কতটা সত্যের পাশে দাঁড়িয়েছে, অন্যায়ের বিরুদ্ধে কতটা নির্ভীক থেকেছে এবং সমাজের বিবেক হিসেবে কতটা দায়িত্ব পালন করেছে। সংবাদপত্রের সবচেয়ে বড় অর্জন পাঠকের আস্থা; সবচেয়ে বড় শক্তি তার নৈতিক অবস্থান। সেই আস্থা ও দায়বদ্ধতার অমূল্য সম্পদকে ধারণ করেই আজ, ২১ জুলাই, ১৬ বছরে পদার্পণ করেছে ‘একুশের কণ্ঠ’।
এই ষোলো বছরের পথচলা কেবল একটি প্রতিষ্ঠানের নয়; এটি সত্যকে ধারণ করার এক অবিচল প্রতিশ্রুতির ইতিহাস। প্রতিটি সংখ্যা আমাদের জন্য ছিল নতুন দায়িত্ব, নতুন পরীক্ষা এবং নতুন অঙ্গীকার। সময় বদলেছে, প্রযুক্তি বদলেছে, সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলেছে; কিন্তু সত্যের প্রতি দায়বদ্ধতার যে নৈতিক ভিত্তির ওপর একুশের কণ্ঠ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল, সেই ভিত্তি আজও অটুট।
এই বিশ্বাস থেকেই প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে একুশের কণ্ঠ জনমানুষের সংবাদপত্র হওয়ার চেষ্টা করেছে। ক্ষমতার অলিন্দে নয়, মানুষের জীবনেই আমরা খুঁজেছি সংবাদ। শহরের আলোচিত ঘটনা যেমন আমাদের পাতায় স্থান পেয়েছে, তেমনি গ্রামের কৃষকের দীর্ঘশ্বাস, শ্রমজীবী মানুষের সংগ্রাম, শিক্ষার সংকট, স্বাস্থ্যসেবার বৈষম্য, পরিবেশের অবক্ষয়, দুর্নীতি, অনিয়ম এবং ন্যায়বিচারের দাবিও সমান গুরুত্ব পেয়েছে। আমরা বিশ্বাস করি, সাংবাদিকতার প্রকৃত শক্তি তখনই প্রকাশ পায়, যখন প্রান্তিক মানুষের কণ্ঠস্বরও রাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী পরিসরে পৌঁছাতে পারে।
আজ ১৬ বছরে পদার্পণের এই গৌরবময় মুহূর্তে আমরা আত্মতুষ্ট নই; বরং আরও বেশি দায়িত্বশীল হওয়ার অঙ্গীকার করছি। আমাদের প্রতিযোগিতা অন্য কারও সঙ্গে নয়; নিজেদের সঙ্গে। প্রতিটি নতুন দিন আমাদের কাছে আরও ভালো সাংবাদিকতা করার, আরও নির্ভুল হওয়ার, আরও গভীরভাবে মানুষের কথা বলার এবং আরও সাহসের সঙ্গে সত্য প্রকাশের নতুন সুযোগ।
এই দীর্ঘ যাত্রাপথে যাঁরা আমাদের পাশে ছিলেন—সম্মানিত পাঠক, সংবাদকর্মী, প্রতিনিধি, লেখক, কলামিস্ট, বিজ্ঞাপনদাতা, শুভানুধ্যায়ী এবং গঠনমূলক সমালোচক সবাইকে জানাই গভীর কৃতজ্ঞতা। তাঁদের আস্থা, সহযোগিতা ও ভালোবাসা ছাড়া এই পথচলা কখনো সম্ভব হতো না। তাঁদের বিশ্বাসই আমাদের সবচেয়ে বড় পুরস্কার এবং আগামী দিনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা।
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর এই শুভক্ষণে মহান আল্লাহ তাআলার কাছে আমাদের প্রার্থনা তিনি যেন আমাদের লক্ষের পথে অবিচল থাকার শক্তি, ন্যায়ের পক্ষে নির্ভীক থাকার সাহস এবং মানুষের কল্যাণে কলমকে সজীব রাখার প্রজ্ঞা দান করেন।